ষোল শতকের রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার মুসলিম কবি দৌলত উজির বাহরাম খান। তিনি আরবি ও ফারসি ভাষা এবং ইসলামী ধর্মশাস্ত্রের মতো হিন্দু ধর্মশাস্ত্র ও সংস্কৃত ভাষায় পারদর্শী ছিলেন। 'লায়লী-মজনু' কাব্যের মতো বিশ্বখ্যাত বিরহকথা নিয়ে মানবিক প্রেমবোধকে প্রাধান্য দিয়ে বাংলা ভাষায় প্রথম কাব্য তিনি রচনা করেন।
- দৌলত উজির বাহরাম খান চট্টগ্রামের ফতেহবাদ /জাফরাবাদে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা চট্টলাধিপতির উজির মোবারক খান।
- তাঁর প্রকৃত নাম আসাউদ্দীন / বাহরাম খান। উপাধি: দৌলত উজির।
দৌলত উজির বাহরাম খান কাব্যসমূহ:
'জঙ্গনামা' বা 'মঞ্জুল হোসেন': এটি তার রচিত প্রথম কাব্য। কারবালার বিষাদময় কাহিনি অবলম্বনে এটি রচনা করেন।
'লায়লী-মজনু' (১৫৪৩-৫৩), 'ইমাম-বিজয়'।
'লায়লী-মজনু' অনুবাদ করেন দৌলত উজির বাহরাম খান। তিনি পারসিয়ান কবি জামির 'লায়লা ওয়া মজনুন' থেকে বাংলায় অনুবাদ করেন। এর উৎস আরবি লোকগাঁথা।
'লায়লী-মজনু' কাব্যের পরিচয়:
দৌলত উজির বাহরাম খান পারসিয়ান কবি নিজামির আরবি লোকগাঁথা 'লায়লা ওয়া মজনুন' থেকে বাংলায় অনুবাদ করেন। দৌলত উজির এটির ভাবানুবাদকালে স্বাধীন কল্পনা ও উপস্থাপনায় প্রচুর সংস্কৃত শব্দ, উপমা, রূপকের প্রয়োগ ঘটিয়েছেন। এটি আদি রসাত্মক এবং এখানে আধ্যাত্মিকতার চেয়ে মানবিক প্রবৃত্তি বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। আমীর পুত্র কয়েস বাল্যকালে বণিক কন্যা লায়লীর প্রেমে পড়ে মজনু বা পাগল নামে খ্যাত হয়। লায়লীও মজনুর প্রতি গভীর আকর্ষণ অনুভব করে। কিন্তু উভয়ের মিলনের পথে আসে প্রবল বাধা। লাইলীর অন্যত্র বিয়ে হয়ে যায় কিন্তু মনে থেকে যায় মজনুর অস্তিত্ব। অপরদিকে মজনু পাগলরূপে বনে-জঙ্গলে ঘুরে বেড়াতে থাকে। তাদের দীর্ঘ বিরহজীবনের অবসান ঘটে মৃত্যুর মাধ্যমে। এই মর্মস্পর্শী বেদনাময় কাহিনি অবলম্বনে লায়লী-মজনু কাব্য রচিত।
Read more